জার্মানির আর্থিক প্রণোদনা ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের এ আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকার সর্বশেষ ফান্ড ম্যানেজার জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ইউরো নিউজ।
ব্যাংক অব আমেরিকার ফেব্রুয়ারির ‘ইউরোপীয় ফান্ড ম্যানেজার সার্ভে’ অনুযায়ী, ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘অভূতপূর্ব’ উৎসাহ দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত এ জরিপে উঠে এসেছে, রেকর্ডসংখ্যক ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা আগামী মাসগুলোয় ইউরোপের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। গত জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন ১৫ শতাংশ ফান্ড ম্যানেজার, যা আগে ছিল ২৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে ৯৬ শতাংশ ইউরোপীয় বিনিয়োগকারী মনে করছেন, ইউরোপে নিকট ভবিষ্যতে কোনো মন্দার আশঙ্কা নেই।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মতে, ইউরোপের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব বাড়ার মূল কারণ হলো জার্মানির রাজস্ব নীতি সম্প্রসারণের প্রত্যাশা। মহাদেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রতিরক্ষা খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের অর্থনীতির ইতিবাচক পূর্বাভাসের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে জার্মানির আর্থিক পরিকল্পনা। জরিপে অংশ নেয়া ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইউরোপের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির প্রধান অনুঘটক হবে জার্মানির এ বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা। অন্যদিকে ২২ শতাংশ বিনিয়োগকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধিকে প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ব্যাংক অব আমেরিকার ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট আন্দ্রেয়াস ব্রুকনার বলেন, ‘জার্মানির আর্থিক প্রণোদনার প্রভাব ইতিবাচকভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।’
ইউরোপের এ উজ্জ্বল সম্ভাবনার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ব্যাংক অব আমেরিকার জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ভাটা পড়েছে।
প্রায় অর্ধেক ইউরোপীয় বিনিয়োগকারী (৪৮ শতাংশ) মনে করছেন, আগামী মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি একটি স্থবির বা গতিহীন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে। গত জানুয়ারিতে এ আশঙ্কার হার ছিল ৪৪ শতাংশ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন এমন বিনিয়োগকারীর হার ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বলতা ও ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়াকে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন ৪৪ শতাংশ বিনিয়োগকারী। পাশাপাশি ৪১ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালার মিশ্র প্রভাবও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় একটি ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপের শেয়ারবাজার পিছিয়ে থাকবে বা সমানতালে চলবে বলে মনে করছেন ১০ শতাংশেরও কম বিনিয়োগকারী।
বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যাংক খাত। তবে অটোমোবাইল ও মিডিয়া খাতের ওপর তাদের অনাগ্রহ বজায় রয়েছে। অটোমোবাইল খাতকে বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে অবমূল্যায়িত খাতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ তালিকায় আরো রয়েছে জ্বালানি খাত। অন্যদিকে প্রযুক্তি, বীমা ও ইউটিলিটি খাতগুলোকে এখন সবচেয়ে অতিমূল্যায়িত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১২ মাসে কোন খাত সবচেয়ে ভালো করবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ বা শিল্প খাতের পক্ষে মত দিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৫ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে শিল্প খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ব্যাপক হারে বেড়েছে। শিল্প খাতের পরই ১৯ শতাংশ বিনিয়োগকারীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাঁচামাল খাত।
দেশভিত্তিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইউরোপের শেয়ারবাজারে সবচেয়ে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে কম পছন্দের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ফ্রান্স।